বিনোদন ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় নারীদের রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে আয়োজিত একটি নাগরিক মিছিলে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। ভারতের স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অন্যান্য শিল্পী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে রাজপথে উপস্থিত হন তিনি। রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় থেকে সাধারণত দূরত্ব বজায় রাখলেও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এই কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণ পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
কলকাতার রাজপথ রাতে নারীদের জন্য আরও নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করার বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিবাদী পদযাত্রায় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, নারী জনপ্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একাধিক পরিচিত মুখ সমবেত হন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অগ্নিমিত্রা পালের আহ্বানে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি টালিউড চলচ্চিত্র ও সংগীতজগতের তারকাদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি নাগরিক অধিকারের দাবিতে এক প্ল্যাটফর্মে রূপ নেয়।
মিছিল চলাকালে জয়া আহসানের সঙ্গে যোগ দেন কলকাতার খ্যাতনামা অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, চৈতি ঘোষাল, সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী ও পৌষালীসহ পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একাধিক প্রতিনিধি। পদযাত্রার একপর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান দেন এবং কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত বিপ্লবী গান ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন। শিল্পীদের এই সমবেত অবস্থান কর্মসূচিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পরপরই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নেটিজেনদের একটি অংশ বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে কলকাতার স্থানীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাঁর এই উপস্থিতির যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। অন্যদিকে, আরেকটি বড় অংশের মতে—নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকারের মতো সর্বজনীন মানবিক ইস্যুতে যেকোনো শিল্পীর অবস্থান নেওয়া একটি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। ভৌগোলিক সীমানা নির্বিশেষে একজন সচেতন নারী ও শিল্পী হিসেবে এমন সামাজিক দাবিতে সংহতি জানানো প্রশংসার দাবিদার বলেই তারা মত প্রকাশ করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচিটি কোনো নির্দিষ্ট দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নয়, বরং সমাজে নারীদের স্বাধীন চলাচল ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিকে মূল ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়েছে। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েই জয়া আহসানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে শামিল হয়েছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান এই বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জয়া আহসানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রেও দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কাজ করছেন জয়া আহসান। একের পর এক প্রশংসিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দুই বাংলাতেই নিজস্ব শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি ভারতে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্র ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’, যা ইতোমধ্যে দর্শক ও সমালোচকদের কাছে সমাদৃত হয়েছে। চলমান কাজের ব্যস্ততার মাঝেই কলকাতার এই নাগরিক কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


