জুলাইয়ে ৪৪১ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৮, শীর্ষে মোটরসাইকেল

জুলাইয়ে ৪৪১ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৮, শীর্ষে মোটরসাইকেল

জাতীয় ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে সারা দেশে ৪৪১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫৩৯ জন। সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হতাহতের দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে দুই চাকার বাহন মোটরসাইকেল। এককভাবে শুধু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১০৯ জনের, যা মোট প্রাণহানির এক-চতুর্থাংশের বেশি।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান স্বাক্ষরিত সড়ক দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়।
বিআরটিএর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভাগভিত্তিক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগ। চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ ১২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০৬ জন নিহত এবং ১৪৬ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সংখ্যা ও হতাহতের দিক থেকে এর পরেই রয়েছে ঢাকা বিভাগ; যেখানে ১০৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০১ জন এবং আহত হয়েছেন ১২২ জন।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহী বিভাগে ৫৬টি দুর্ঘটনায় ৫৭ জন নিহত ও ৪২ জন আহত হন। রংপুর বিভাগে ৫০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৪ জন এবং আহত হয়েছেন ২৭ জন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৯ জন নিহত ও ৮৬ জন আহত, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত ও ২৫ জন আহত, বরিশাল বিভাগে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও ৫৩ জন আহত এবং সিলেট বিভাগে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও ৫৩ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলোতে মোট ৬৭৩টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। যানবাহনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ছিল ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান ১৪২টি, মোটরসাইকেল ১২৪টি এবং বাস বা মিনিবাস ১০৬টি। এছাড়া সম্পৃক্ত অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে রয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৫৭টি, পিকআপ ৩৫টি, ব্যাটারিচালিত রিকশা ২৮টি, ইজিবাইক ২১টি, ভ্যান ২০টি, মোটরকার বা জিপ ১৮টি, মাইক্রোবাস ৮টি, ট্রাক্টর ৮টি, অ্যাম্বুলেন্স ৫টি এবং অন্যান্য অনিবন্ধিত বা স্থানীয় যান ১০১টি।
যানবাহনভিত্তিক প্রাণহানির তথ্যে দেখা যায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ১০৯ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় ৫৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বাস বা মিনিবাস দুর্ঘটনায় ৪৫ জন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ৪০ জন, পিকআপ দুর্ঘটনায় ১৬ জন, ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ১৫ জন, ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনায় ১৪ জন এবং ভ্যান দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া মোটরকার বা জিপ দুর্ঘটনায় ৮ জন, মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ৫ জন, ট্রাক্টর দুর্ঘটনায় ৪ জন, অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় ৩ জন এবং অন্যান্য যানবাহন সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ না মানা, দ্রুতগতিতে ওভারটেকিং, মোটরসাইকেলের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং ভারী যানবাহনের সঙ্গে ছোট যানবাহনের সহাবস্থান দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। একইসঙ্গে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে শিথিলতা ও সচেতনতার অভাব সড়ক নিরাপত্তাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে চালকদের সঠিক প্রশিক্ষণ, নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ধীরগতির বাহন চলাচল বন্ধে কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ