জাতীয় ডেস্ক
বরিশাল: আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বরিশাল নগরীর কাশিপুরে নবনির্মিত বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্স ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাততলা বিশিষ্ট এই আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সের ফলক উন্মোচন করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, তথ্যসেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে সহজলভ্য করা এবং গণমাধ্যমের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে এই কমপ্লেক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যার প্রত্যক্ষ সুফলভোগী হবেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ নাগরিক।
উদ্বোধন পরবর্তী সুধী সমাবেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের তথ্য ব্যবস্থাপনাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সফটওয়্যার প্রকৌশলকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। শুধুমাত্র দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করলেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়; বরং তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক প্রয়োগ ও কার্যকর সফটওয়্যার পরিচালনার মাধ্যমেই সেবার প্রকৃত মান নিশ্চিত করা যায়। তিনি জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অবকাঠামোগত প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও ডিজিটাল সেবা কার্যক্রমকে সফটওয়্যারভিত্তিক করতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তথ্য কমপ্লেক্সটি যেন নিছক প্রশাসনিক কার্যালয় হিসেবে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং নাগরিক সেবা, সুস্থ বিনোদন এবং গবেষণামূলক তথ্য অনুসন্ধানের একটি প্রাণবন্ত কেন্দ্রে পরিণত হয়—সে লক্ষ্যেই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সাততলা আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক নাগরিক সুবিধার অংশ হিসেবে কমপ্লেক্সটিতে যুক্ত করা হয়েছে সিনেপ্লেক্স, আধুনিক সাইবার ক্যাফে, ডিজিটাল আর্কাইভ, আইসিটি ল্যাব এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ। এখানে সংরক্ষিত ডিজিটাল আর্কাইভের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা সহজে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ঐতিহাসিক নথি সংগ্রহ করতে পারবেন। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি ল্যাব ও সাইবার ক্যাফে তরুণ উদ্যোক্তাদের নতুন প্রযুক্তি শেখা ও নাগরিক তথ্যসেবা পাওয়ার পথ সুগম করবে।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আধুনিক এই বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্সটির নির্মাণকাজ ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। তবে অবকাঠামোগত সমন্বয় ও কারিগরি মান নিশ্চিতকরণের কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন বছর পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হলো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও প্রযুক্তির টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতেই প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজনের মধ্য দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে।
সরকারের দেশব্যাপী তথ্য অবকাঠামো আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে বিভাগীয় শহরসহ দেশের ২৬টি জেলায় এ ধরনের আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি এবং ব্যবহারিক উপযোগিতা পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়েও তথ্য কমপ্লেক্স সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ তথ্য প্রবাহ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আধুনিক এই অবকাঠামো বরিশাল অঞ্চলের নাগরিক যোগাযোগ ও তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণে একটি মডেল হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


