বিজয়নগরে বিজিবির অভিযানে ৯৫৮ বোতল ভারতীয় মাদক জব্দ

বিজয়নগরে বিজিবির অভিযানে ৯৫৮ বোতল ভারতীয় মাদক জব্দ

জাতীয় ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার ভোরে উপজেলার নোয়াবাদী এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে ৯৫৮ বোতল আমদানি নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িত চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রবিবার ভোরে সরাইল ব্যাটালিয়নের (২৫ বিজিবি) একটি বিশেষ টহল দল নিয়মিত সীমান্ত নজরদারির অংশ হিসেবে বিজয়নগর উপজেলার নোয়াবাদী সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় আন্তর্জাতিক সীমান্তরেখা অতিক্রম করে আট থেকে নয়জনের একটি সন্দেহভাজন দলকে মাথায় ভারী বস্তা নিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখেন টহল দলের সদস্যরা। চোরাচালানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে দ্রুত ধাওয়া করেন।
টহল দলের উপস্থিতি ও ধাওয়া খেয়ে চোরাকারবারিরা অন্ধকার ও সীমান্তবর্তী ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে সঙ্গে থাকা বস্তাগুলো ফেলে দ্রুত ভারতের সীমান্তের দিকে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে ফেলে যাওয়া আটটি চটের বস্তা উদ্ধার করেন। এসব বস্তা খুলে গণনা শেষে মোট ৯৫৮ বোতল ভারতীয় তৈরি নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ পাওয়া যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল ব্যাটালিয়নের (২৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মাদক ও চোরাচালান পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টহল দলের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। বিজিবির তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে বিপুল পরিমাণ মাদকের চালানটি দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, জব্দকৃত মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত আইনানুগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এস্কাফ সিরাপ পরবর্তী সময়ে বিধি মোতাবেক জনসমক্ষে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে জমা রাখার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী বিজয়নগর উপজেলা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মাদক চোরাচালানের অন্যতম স্পর্শকাতর রুট হিসেবে পরিচিত। ভৌগোলিক সান্নিধ্য ও দুর্গম সীমান্ত এলাকাকে কাজে লাগিয়ে মাদক কারবারিরা বিভিন্ন সময় অভিনব কায়দায় ভারত থেকে নিষিদ্ধ সিরাপ, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ অন্যান্য মাদক পাচারের চেষ্টা চালায়। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র সুযোগ পেলেই সীমান্ত অতিক্রম করে মাদকের চালান দেশে ঢোকানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে।
সীমান্ত দিয়ে এ জাতীয় বিপজ্জনক মাদক অনুপ্রবেশ দেশের যুবসমাজ ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। চিকিৎসকদের মতে, এস্কাফ বা কোডিনযুক্ত সিরাপ মারাত্মক আসক্তি সৃষ্টি করে এবং মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্র ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করে। সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার এবং চোরাচালান প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ও স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মাদকমুক্ত সীমান্ত নিশ্চিত করার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ