অপরাধ ও দুর্ঘটনা ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় আনুমানিক মধ্যবয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় নারী নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাতে মহাসড়কের মৌচাক বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর চালক কাভার্ড ভ্যানটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি দাফনের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটা থেকে সোয়া দুইটার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী সরাসরি লেনে রাস্তা পার হচ্ছিলেন ওই নারী। এ সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যান তাকে চাপা দিলে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গভীর রাতে যানবাহন চলাচল তুলনামূলক কম থাকায় এবং গতির কারণে চালক গাড়িটি না থামিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে হাইওয়ে পুলিশের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা হওয়ায় মরদেহটি কাঁচপুর হাইওয়ে থানার শিমরাইল হাইওয়ে ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তরিকুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জানান, নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বিশেষজ্ঞ দলকে খবর দেওয়া হয়। পিবিআই সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে মরদেহের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) সংগ্রহ করে জাতীয় তথ্যভাণ্ডারে মেলানোর চেষ্টা করেন। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের সাথে আঙুলের ছাপ না মেলায় তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম বা ঠিকানা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিহত নারী মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। পরিচয় শনাক্তের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় মরদেহটি ময়নাতদন্তের পর বেওয়ারিশ হিসেবে যথাযথ ধর্মীয় নিয়মে দাফন সম্পন্ন করার জন্য সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে ঘাতক কাভার্ড ভ্যান ও চালককে শনাক্ত করতে মহাসড়কের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ ও কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মহাসড়কে পথচারী পারাপারে অসতর্কতা এবং রাতের বেলায় অতিরিক্ত গতির কারণে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে রাতের টহল ও গতি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


