ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানি: ডিএসসিসির কর্মকর্তা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, কারণ দর্শানোর নোটিশ

ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানি: ডিএসসিসির কর্মকর্তা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, কারণ দর্শানোর নোটিশ

রাজধানী ডেস্ক
ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের কাজে ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং অনৈতিকভাবে অর্থ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এক লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগের বিবিধ আদায় শাখা (অঞ্চল-৪)-এর লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার মোস্তফা নূরউদ্দিন আহম্মেদ। একই সঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
গতকাল রবিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, আইন-শৃঙ্খলা ও যানজট পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিশেষ করে ট্রেড লাইসেন্স সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, রাজস্ব বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং ডিসিসিআই ও বিভিন্ন বাজার সমিতির ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী ভুট্টো সরাসরি ডিএসসিসির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ২৩ ও ২৪ জুন ডিএসসিসি পরিচালিত তাৎক্ষণিক বা ‘অনস্পট’ ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নসংক্রান্ত বিশেষ রাজস্ব ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ওই ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকালে লাইসেন্স সুপারভাইজার মোস্তফা নূরউদ্দিন আহম্মেদ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট ২২টি ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগদ অর্থ গ্রহণ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, অর্থবছর সমাপ্ত হয়ে প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও ওই ২২টি ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করে ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। সেবা না পেয়ে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র আটকে থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনায় চরম প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার মুখে পড়েন। ভুক্তভোগীরা প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানান। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স সুপারভাইজারের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে দফায় দফায় সময়ক্ষেপণ করেন এবং সেবা প্রদানে গড়িমসি করতে থাকেন।
ব্যবসায়ী নেতার এমন সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে সভার প্রধান অতিথি ডিএসসিসি প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপরই ডিএসসিসির শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোস্তফা নূরউদ্দিন আহম্মেদকে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের ব্যাখ্যা চেয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে তিন কার্যদিবসের সময় বেঁধে দিয়ে শোকজ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য সন্তোষজনক না হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তসহ চাকরিবিধি এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাগরিক সেবা ও ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষ্যে রাজস্ব ক্যাম্প পরিচালনার সময় এমন অনিয়ম সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। সেবা খাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের এমন দ্রুত ও সরাসরি পদক্ষেপ মাঠপর্যায়ের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে তারা ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত সম্পূর্ণ কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো কর্মকর্তা ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের সুযোগ না পান।
রাজধানী শীর্ষ সংবাদ