খেলাধুলা ডেস্ক
ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্টে ৯ উইকেটের পরাজয়ের পর এবার নতুন সংকটের মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ম্যাচটিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বোলিং কোটা পূরণ করতে না পারায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) আচরণবিধির আওতায় বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারানোর গুরুতর ঝুঁকিতে পড়েছে প্যাট কামিন্সের দল।
টেস্টের দ্বিতীয় দিনে নির্ধারিত ৯০ ওভারের চেয়ে চার ওভার কম বোলিং করে স্বাগতিক দল। প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান। দ্বিতীয় দিনে খেলা শেষে তা দাঁড়ায় ১১০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। অর্থাৎ, পুরো দিনে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ৮৬ ওভার বোলিং করতে সক্ষম হয়। আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী, টেস্ট ম্যাচে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৫ ওভার এবং পুরো দিনে বিরতিগুলো বাদে নূন্যতম ৯০ ওভার বোলিং সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আইসিসির বিধিমালায় উল্লেখ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নূন্যতম ওভার রেট বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে প্রতি ওভার ঘাটতির জন্য সংশ্লিষ্ট দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে তাঁদের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ হারে জরিমানা করা হবে। অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি টেস্টের জন্য একজন ক্রিকেটার প্রায় ২০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার ম্যাচ ফি হিসেবে পেয়ে থাকেন। সে হিসেবে চার ওভার কম বোলিং করায় প্রতি খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ বা ৪ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার কেটে নেওয়ার বিধান কার্যকর হতে পারে। পুরো দলের একাদশের ওপর এই শাস্তি প্রযুক্ত হলে মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪৪ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার।
আর্থিক ক্ষতির চেয়েও অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট কর্তন। আইসিসির নিয়ম অনুসারে, স্লো ওভার রেটের কারণে প্রতি ওভার ঘাটতির জন্য চ্যাম্পিয়নশিপের মোট অর্জন থেকে ১টি করে পেনাল্টি পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়। বর্তমানে ৮৪ পয়েন্ট ও ৭৭.৭৮ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় শীর্ষস্থানে থাকলেও চার পয়েন্ট কাটা গেলে তা দলটির ফাইনালের পথকে কঠিন করে তুলতে পারে। ২০২০ সালে ভারতের বিপক্ষে মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টে স্লো ওভার রেটের কারণে ৪ পয়েন্ট কর্তন হওয়ায় ২০২১ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
তবে চূড়ান্ত শাস্তির ঘোষণা আসার আগে ম্যাচ রেফারি পারিপার্শ্বিক কিছু সুবিধা বিবেচনা করতে পারেন। বিশেষ করে ডারউইনের তীব্র ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া, ইনজুরি বিরতি, উইকেট পতন এবং ডিআরএস পর্যালোচনার মতো বিষয়গুলোর জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে ওভার সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া শিবিরের প্রত্যাশা, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণ দেখিয়ে ম্যাচ রেফারির শুনানিতে তাঁরা কিছুটা ছাড় পেতে পারেন।
এদিকে বাংলাদেশ দলও নিজেদের ফিল্ডিং ইনিংসে নির্ধারিত ওভার রেটের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও শাস্তির আওতায় আসছে না। আইসিসির স্পষ্ট নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো দল যদি প্রতিপক্ষকে ৮০ ওভারের মধ্যে অলআউট করে দেয় কিংবা ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ১৬০ ওভারের কম খেলায় নিষ্পত্তি হয়, তবে ফিল্ডিং দলের ক্ষেত্রে ওভার রেটের বাধ্যবাধকতা ও শাস্তি শিথিল থাকে। অস্ট্রেলিয়া নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৫৩ ওভারেই অলআউট হওয়ায় বাংলাদেশ এই নিয়মের সুবিধা পেয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাটিং করায় অস্ট্রেলিয়া দল কোনো রেয়াত পাওয়ার সুযোগ হারিয়েছে। ম্যাচ রেফারির আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনের পরই শাস্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।


