ফরিদপুরে ৫ পিস ইয়াবাসহ এক নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, আদালতের কারাদণ্ড

ফরিদপুরে ৫ পিস ইয়াবাসহ এক নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, আদালতের কারাদণ্ড

অপরাধ ডেস্ক
ফরিদপুর সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মেহেরুন্নেসা বৃষ্টি ওরফে মেহু (২৩) নামের এক তরুণীকে ৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। রোববার (১৭ আগস্ট) বিকেলে সদর উপজেলার কুঠিবাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের একটি দল ফরিদপুর সদর উপজেলার কুঠিবাড়ি এলাকায় অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে সেখানে অভিযান চালিয়ে মেহেরুন্নেসা বৃষ্টিকে তার নিজ বসতবাড়ির সামনের গলি থেকে আটক করা হয়। আটকের পর তার দেহ তল্লাশি করে ৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যা তার অবৈধ দখলে ছিল বলে নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃত মেহেরুন্নেসা বৃষ্টিকে ফরিদপুর জেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত উভয়পক্ষের শুনানির পর সামারি ট্রায়াল বা সংক্ষিপ্ত বিচারপদ্ধতি প্রয়োগ করে আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সাজার মেয়াদ আরও বাড়তে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরীন আক্তার জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ গ্রাস থেকে রক্ষা করতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে এ ধরনের তৎপরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও জানান, জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মাদক ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক ভাঙতে এবং অবৈধ মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে জেলা জুড়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে এ ধরনের দ্রুত বিচার ও কার্যকর পদক্ষেপ সমাজে ইতিবাচক বার্তা প্রদান করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, মাদকের মূল উৎপাটন ও সরবরাহ রুটগুলো বন্ধ করতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যা তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে।
শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ