জাতীয় ডেস্ক
বিগত শাসনামলের অরাজকতা, মেগা দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের এক চরম ভগ্নস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশ পুনর্গঠনের কাজ পরিচালনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি জানান, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস (১৮০ দিন) পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত ছয় মাসের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বিগত সরকারের মেয়াদের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার বিশদ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত আমলে দেশে এক ভয়াবহ নৈরাজ্যের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। রাজনৈতিক কারণে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ভিন্নমত দমনের ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। সরকারের ভিন্নমত পোষণকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালানো হয় এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর নজিরবিহীন সহিংসতা চালানো হয়। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে এবং দেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির গভীর সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতি রাতারাতি কাটিয়ে ওঠা একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি থেকে শুরু করে সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংকসহ গোটা আর্থিক খাতের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের নামে যে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচার হয়েছে, তা জাতীয় অর্থনীতিকে ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছে দেয়। বর্তমান সরকার সেই সংকট কাটিয়ে উঠে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ প্রসঙ্গে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গণমুখী কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, খাল খনন কর্মসূচি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সরকারের গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার প্রতি গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, একটি নির্বাচিত ও দায়িত্বশীল সরকারের প্রধান কর্তব্য জনগণের স্বার্থরক্ষা করা। সংসদ ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আজকের সংবাদ সম্মেলনটিও সরকারের সেই জবাবদিহিতার অংশ।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ও নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


