অপরাধ ডেস্ক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি নতুন মামলায় আটক তিন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবু এবং ফারজানা রুপাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এই আদেশ জারি করেন। আদেশে আগামী ২৪ আগস্ট এই তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে সশরীরে উপস্থাপনের দিন ধার্য করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আনা অভিযোগের শুনানির পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই নির্দেশনা প্রদান করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে শ্যামল দত্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক। মোজাম্মেল হক বাবু বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান সম্পাদক এবং ফারজানা রুপা একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও সংবাদ উপস্থাপক।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং পরবর্তী গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে উসকানি, প্ররোচনা এবং সহযোগিতার অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে এই আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে উল্লেখ করা হয় যে, আন্দোলন দমন এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর পরিচালিত নৃশংসতায় তথ্যগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও উসকানি প্রদানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল। এই অভিযোগের প্রাথমিক গ্রহণযোগ্যতার ওপর ভিত্তি করেই আদালত তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, উল্লেখিত তিন সাংবাদিকই বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এর আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের পৃথক মামলায় মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অন্যদিকে, সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টার সময় আটক হওয়ার পর অন্য একটি মামলায় শ্যামল দত্তকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। নতুন এই মামলার প্রেক্ষিতে তাঁদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় নিয়ে আসা হলো।
আইনজীবীদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর আওতায় সাধারণত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগের বিচার সম্পন্ন করা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট ঘটনায় গণমাধ্যমের নীতি ও পেশাগত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কোনো ব্যক্তি উসকানি বা সরাসরি সহযোগিতায় যুক্ত ছিলেন কি না, তা এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। আগামী ২৪ আগস্ট আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এবং প্রসিকিউশনের আবেদনের ওপর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


