অপতথ্য ও ক্ষতিকর কনটেন্ট প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর

অপতথ্য ও ক্ষতিকর কনটেন্ট প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
অনলাইনে অপতথ্য, ভুয়া সংবাদ ও ক্ষতিকর কনটেন্ট প্রতিরোধে গণমাধ্যম, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। একই সঙ্গে ডিজিটাল পরিসরে তথ্যের সঠিকতা যাচাই এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি দায়িত্বশীল ও সমন্বিত কর্মকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সামাজিক সংহতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের পদস্থ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরের এই যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহ যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কনটেন্টের বিস্তার। বর্তমান সময়ে কেবল সাধারণ নাগরিকরাই নন, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিরাও নিয়মিত ভুয়া তথ্য ও সাইবার অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। এ সংক্রান্ত নানা অভিযোগ নিয়মিত তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে আসছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাইবার পরিসরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত কাঠামো শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে কেবল আইন প্রয়োগ করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; বরং তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। যে কোনো তথ্য প্রচারের পূর্বে তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও উৎস নিশ্চিত করার জন্য গণমাধ্যমকর্মী এবং সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী—উভয় পক্ষকেই সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
ইন্টারনেট ব্যবহারের ঝুঁকি তুলে ধরে মন্ত্রী বিশেষ করে শিশুদের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনুপযুক্ত ও ক্ষতিকর উপাদানের আধিক্য রয়েছে, যা তাদের মানসিক বিকাশ ও সুরক্ষাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ ইন্টারনেট পরিবেশ দিতে না পারলে স্মার্ট সমাজের সুফল টেকসই হবে না।
সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের বিষয়টি উল্লেখ করে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জানান, ক্ষতিকর কনটেন্টের বিস্তার ঠেকাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, গণমাধ্যম এবং জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা যেমন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও ইউনেস্কোর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশ্বমানের তথ্য যাচাইয়ের প্রযুক্তি, সচেতনতামূলক প্রচার এবং নীতিগত সহায়তার ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্ব কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি আরও যোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া তথ্যের কারণে যাতে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট না হয়, সেদিকে রাষ্ট্র ও সমাজকে যৌথ নজরদারি রাখতে হবে। নাগরিকদের মধ্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার না করার মানসিকতা তৈরি করতে পারলে অপতথ্য প্রতিরোধে বাস্তব অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ