ঠাকুরগাঁওয়ে অনুমোদন পেল ‘ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’

ঠাকুরগাঁওয়ে অনুমোদন পেল ‘ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’

শিক্ষা ডেস্ক
উত্তরাঞ্চলের প্রান্তিক জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অনুমোদন পেয়েছে নতুন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ‘ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ নামে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পূর্ব নারগুন এলাকায় তাদের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সম্প্রতি এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ও আদেশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন নিশ্চিত করেছে। নতুন এই অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দেশে মোট অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৭-তে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মুহম্মদ শহীদ উজ জামানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে মোট ৩১টি সুনির্দিষ্ট শর্ত পরিপালনের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রাথমিকভাবে এই সাময়িক অনুমতির মেয়াদ হবে সাত বছর। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বা সম্পূর্ণ ভাড়াকৃত ন্যূনতম ২৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি সুনির্দিষ্ট ভবন থাকতে হবে। পাঠদানের একাডেমিক কাঠামো নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে তিনটি অনুষদ এবং এসব অনুষদের অধীনে ন্যূনতম ছয়টি বিভাগ চালু রাখতে হবে। এ ছাড়া আর্থিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ স্থায়িত্বের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে যে কোনো তফসিলি ব্যাংকে সংরক্ষিত তহবিল হিসেবে কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা জমা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মুহম্মদ শহীদ উজ জামান জানান, প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র গতানুগতিক একাডেমিক ডিগ্রি বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ, সময়োপযোগী আধুনিক গবেষণা এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির একটি শক্তিশালী কেন্দ্র বা হাব হিসেবে এটি কাজ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির মূল দর্শন নির্ধারণ করা হয়েছে—‘শিক্ষা থেকে দক্ষতা, দক্ষতা থেকে উদ্ভাবন এবং উদ্ভাবন থেকে কর্মসংস্থান’। বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ জনবল গড়ে তোলাই হবে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ১৯৯২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশের মধ্য দিয়ে দেশে বেসরকারি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে যুগোপযোগী নতুন আইনের মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও সুসংহত কাঠামোর আওতায় আনা হয়। দীর্ঘ তিন দশকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিধি ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে।
ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে ঠাকুরগাঁও জেলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চশিক্ষার অবকাঠামোগত ব্যাপক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর আগে জেলাটিতে ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি একটি নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয় সরকার। এবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হওয়ায় এই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হলো।
শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রান্তিক পর্যায়ে এমন বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকামুখী হওয়ার মানসিক ও আর্থিক চাপ অনেকাংশেই লাঘব হবে। পাশাপাশি প্রান্তিক জনপদে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা, কারিগরি জ্ঞান এবং প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির ফলে স্থানীয় আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার ইতিবাচক রূপান্তর ঘটবে। তবে একই সাথে তারা জোর দিয়েছেন যে, মন্ত্রণালয় নির্দেশিত ৩১টি শর্ত কঠোরভাবে পরিপালন এবং শিক্ষার ন্যূনতম গুণগত মান নিশ্চিত করাই হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রযাত্রার মূল চ্যালেঞ্জ।
শিক্ষা শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ