দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে দুই দিনের সফরে কাতার গেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে দুই দিনের সফরে কাতার গেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কূটনৈতিক ডেস্ক
দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দুই দিনের সরকারি সফরে কাতারের রাজধানী দোহার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি কাতারের উদ্দেশে রওনা হন। একই দিন সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। প্রতিনিধিদলের আগামী ১৯ তারিখ রাতে ঢাকায় ফিরে আসার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল কাতারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক মন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবে। এসব বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি পর্যালোচনা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো কৌশলগত বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও শিল্পায়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক জ্বালানির অন্যতম প্রধান উৎস কাতার। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই সময়ে কাতারের সঙ্গে বিদ্যমান এলএনজি সরবরাহ চুক্তি নির্বিঘ্ন রাখা এবং অতিরিক্ত সরবরাহের সুযোগ তৈরি করা প্রতিনিধিদলের এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে কয়েক লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী কর্মরত রয়েছেন, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাতারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবা খাতে দক্ষ এবং আধাদক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সফরে বাংলাদেশি কর্মীদের সার্বিক কল্যাণ, কাজের পরিবেশ ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজার তৈরির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী কাতারের বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কাতারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সম্মিলিত সফর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমুখী সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করবে। সফর শেষে প্রতিনিধিদলটির ১৯ তারিখ রাতে দেশে ফেরার পর সফরের সার্বিক অগ্রগতি ও স্বাক্ষরিত সম্ভাব্য সমঝোতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ