অপরাধ ডেস্ক
কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে। উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর সদস্যরা উপজেলার আঞ্জুমানপাড়া ও ফাইসাখালী সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৬ লাখ ৭২ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করেন। তবে অভিযানের সময় জড়িত চোরাকারবারিরা মিয়ানমার সীমান্তের দিকে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে একটি বড় মাদকের চালান বাংলাদেশে প্রবেশের গোপন তথ্য পায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এর ভিত্তিতে বুধবার রাতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বালুখালী এবং পালংখালী সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) সদস্যদের সমন্বয়ে একটি যৌথ বিশেষ টহল দল গঠন করা হয়। রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে বিজিবির টহল দলটি আঞ্জুমানপাড়া ও ফাইসাখালী সীমান্ত এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করে সতর্ক পাহারা শুরু করে।
রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে সীমান্ত নজরদারিতে ব্যবহৃত থার্মাল ইমেজিং ডিভাইসের সাহায্যে ৭ থেকে ৮ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পাহাড়ি পথ দিয়ে মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা কাঁধে বস্তা বহন করছিল। তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডের কাছাকাছি পৌঁছালে টহল দলের সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন এবং থামার নির্দেশ দেন। বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা তাদের কাছে থাকা পাঁচটি বড় বস্তা ফেলে রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সীমান্তের ওপারে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ফেলে যাওয়া বস্তাগুলো উদ্ধার করা হয়। বস্তাগুলোর ভেতর বিশেষভাবে মোড়কজাত ও বায়ুরোধী প্যাকেটে রাখা মোট ৬ লাখ ৭২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচারকারীদের গ্রেফতারে তাৎক্ষণিকভাবে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হলেও দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং রাতের অন্ধকারের কারণে কাউকে আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ধ্বংসের জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকার সম্ভাব্য প্রবেশপথগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং এই চালানের সঙ্গে জড়িত মূল কারবারি ও স্থানীয় সরবরাহকারীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মাদক চোরাচালান রোধে ভবিষ্যতে এ ধরনের সমন্বিত ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।


