জাতীয় ডেস্ক
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোটির রূপরেখা এবং সুপারিশমালা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। এর আগে জুলাই কিংবা আগস্টে গেজেট প্রকাশের প্রাথমিক আলোচনা থাকলেও বেতন বৃদ্ধির হার, ভাতা কাঠামো এবং সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনার কারণে প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময় নিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট পর্যালোচনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং অন্যান্য খাতের ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সচিব কমিটি কিছু গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার যৌক্তিকীকরণের সুপারিশ করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তুতকৃত খসড়া রূপরেখায় গ্রেডভিত্তিক মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে:
-
উচ্চতর গ্রেড (১-৪): গ্রেড-১-এ মূল বেতন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। গ্রেড-২-এ ১ লাখ ২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, গ্রেড-৩-এ ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং গ্রেড-৪-এ ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব রয়েছে।
-
মধ্যম গ্রেড (৫-১০): গ্রেড-৫-এ ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা, গ্রেড-৬-এ ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, গ্রেড-৭-এ ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা, গ্রেড-৮-এ ৪৭ হাজার ২০০ থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭০০ টাকা, গ্রেড-৯-এ ৩৯ হাজার ১০০ থেকে ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১০-এ ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।
-
নিম্ন ও অন্যান্য গ্রেড (১১-২০): গ্রেড-১১-এ ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা, গ্রেড-১২-এ ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা, গ্রেড-১৩-এ ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা, গ্রেড-১৪-এ ২৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা এবং গ্রেড-১৫-এ ২২ হাজার ৮০০ থেকে ৫৫ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া গ্রেড-১৬-এ ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৭-এ ২১ হাজার ৪০০ থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৮-এ ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৯-এ ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং গ্রেড-২০-এ ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই কাঠামোটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক চাপ সামাল দিতে ধাপে ধাপে কার্যকর করার কৌশল নেওয়া হতে পারে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে কেবল সংশোধিত মূল বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। পরবর্তী ধাপে চিকিৎসা, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতাসমূহ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সরকার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকেই এটি কার্যকর করার নীতিগত রূপরেখা নির্ধারণ করেছে, যার ফলে গেজেট প্রকাশের পর বকেয়া বেতন-ভাতা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হতে পারে।
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সচিব কমিটির আরো কয়েকটি পর্যালোচনামূলক বৈঠকের পর চূড়ান্ত প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত পাওয়ার পর নথিটি আইনি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইনি সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেই সরকারি প্রজ্ঞাপন আকারে গেজেট জারি করা হবে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকরের পর দীর্ঘদিন পার হওয়ায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন এই বেতন কাঠামো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে। তবে একই সাথে এটি জাতীয় বাজেটের ওপর যে ব্যয়ভার তৈরি করবে, তা সুষমভাবে পরিচালনা করাই এখন সরকারের প্রধান বিবেচ্য বিষয়।


