অপরাধ ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসে তল্লাশি চালিয়ে নয় কেজি গাঁজাসহ বাসটির চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ।
শনিবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে মহাসড়কের কাঁচপুর এলাকায় ঢাকাগামী লেনে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন নোয়াখালী সদর থানার সোনাপুর এলাকার নুর নবীর ছেলে বাসচালক ফুয়াদ উদ্দিন (৩৬) এবং একই থানার মধ্য করিমপুর এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে চালকের সহকারী মো. সালাউদ্দিন (২২)।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে রাজধানী ঢাকার দিকে অবৈধ মাদকের একটি চালান পাঠানো হচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার একটি দল বিশেষ অভিযান শুরু করে। পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আনজিল আহমেদের নেতৃত্বে মহাসড়কের কাঁচপুর তামিম নার্সারির সামনে ঢাকাগামী লেনে একটি অস্থায়ী তল্লাশিচৌকি (চেকপোস্ট) স্থাপন করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী ‘লাল-সবুজ পরিবহন’-এর একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসকে সন্দেহভাজন হিসেবে থামার সংকেত দেওয়া হয়। বাসটি থামানোর পর পুলিশের উপস্থিতিতে বাসের ভেতরে ও লাগেজ রাখার বক্সে বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক ফুয়াদ ও সহকারী সালাউদ্দিন গাড়িতে মাদকদ্রব্য লুকিয়ে রাখার বিষয়টি স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাসের পেছনের ডান পাশের মালামাল রাখার বাক্সে রাখা একটি নীল রঙের কাপড়ের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগটির ভেতরে কালো স্কচটেপ ও নীল পলিথিনে মোড়ানো ছয়টি আলাদা পোটলায় মোট নয় কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। এর মধ্যে তিনটি পোটলায় এক কেজি করে এবং বাকি তিনটি পোটলায় দুই কেজি করে গাঁজা প্যাকেটজাত অবস্থায় ছিল। উদ্ধার করা এই মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ সতেরো হাজার টাকা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ও সংশ্লিষ্ট পরিবহনটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়কে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহন ব্যবহার করে মাদক পাচারের প্রবণতা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।


