অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে গতিশীলতা ও কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এনেছে সরকার। বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্থা—বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষকে (পিপিপিএ) একীভূত করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি নতুন একক সংস্থা গঠন করা হয়েছে।
সরকারের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর ফলে এখন থেকে দেশে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প স্থাপন, অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের যাবতীয় কার্যক্রম নতুন গঠিত এই কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। পৃথক পৃথক সংস্থার অধীনে থাকা প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের কার্যকর বাস্তবায়ন করাই এই একীভূতকরণের মূল লক্ষ্য।
নতুন গঠিত ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী)। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা পৃথক এক প্রজ্ঞাপনে এই শীর্ষ পদে তার নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮(৫) অনুযায়ী তাকে এ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য এই নিয়োগ কার্যকর থাকবে। চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তাকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান সব ধরনের কর্ম-সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যাগ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন পরিচালিত হবে এই নতুন কর্তৃপক্ষ। শীর্ষ পদে নিয়োগের পাশাপাশি সংস্থাটির কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে আরও দুজনকে পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যরা হলেন সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল মোহম্মদ শাহারুল হুদা এবং অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা নাহিয়ান রহমান রচি।
জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশে রাষ্ট্রপতির পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্বের অন্যান্য শর্তাবলী ও পারিশ্রমিক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।
অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিডা, বেজা ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং ক্ষমতার ওভারল্যাপিংয়ের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নানা ধরনের নীতিগত জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার মুখোমুখি হচ্ছিলেন। তিনটি সংস্থাকে একীভূত করে একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীনে আনায় এখন বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকরণ, জমি বরাদ্দ, ছাড়পত্র প্রাপ্তি এবং অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত হবে। নতুন এই একক প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা দেশের সার্বিক শিল্পায়ন ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


