মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান

মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান

জাতীয় ডেস্ক
সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসি জরুরি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদ সম্মেলনের সাইডলাইনে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সাক্ষাতকালে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও বেগবান করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্য পোষণ করে। এছাড়া, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়েও দুই দেশের প্রতিনিধিরা মতবিনিময় করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ সময় মালদ্বীপের সঙ্গে বিদ্যমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ফোরামে বিভিন্ন অভিন্ন স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতার চমৎকার ঐতিহ্য রয়েছে। ভবিষ্যতে এই অংশীদারত্ব কেবল কূটনৈতিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রসারিত করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জনশক্তি রপ্তানি, মৎস্য খাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে তিনি মত দেন।
মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদমও বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন রক্ষায় যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এবং ওআইসি-র মতো আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে উভয় দেশের পারস্পরিক সমর্থন ও সহযোগিতার কথা এ সময় স্মরণ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ওআইসির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চের সাইডলাইনে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বেশি গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি কেবল দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থার ক্ষেত্রকেই প্রশস্ত করবে না, বরং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধি বাড়াতে এবং আঞ্চলিক নানা সংকট মোকাবিলায় যৌথ কৌশল নির্ধারণেও সহায়ক হবে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুটি দেশের এমন কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা পারস্পরিক সহযোগিতা অর্জনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ