খেলার মাঠে ক্রিস্টাল প্যালেসকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে আধিপত্য বজায় রাখল ম্যানচেস্টার সিটি

খেলার মাঠে ক্রিস্টাল প্যালেসকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে আধিপত্য বজায় রাখল ম্যানচেস্টার সিটি

খেলাধুলা ডেস্ক
প্রতিপক্ষের মাঠে দাপুটে প্রদর্শনীতে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৪-১ গোলে পরাজিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে আধিপত্য বজায় রাখে অতিথিরা। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ছিল ম্যানসিটি। প্রায় ৭০ শতাংশ সময় নিজেদের পায়ে বল রেখে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে লাগাতার চাপ সৃষ্টি করে তারা। ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য ক্রিস্টাল প্যালেস একটি সুযোগ তৈরি করেছিল। দ্বিতীয় মিনিটে স্বাগতিক দলের ফরোয়ার্ড এডি এনকেটিয়ার নেওয়া কাছের পোস্টের শট রুখে দেন সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা। এর পরপরই সিটির মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনের একটি জোরালো শটও এক হাতে প্রতিহত করেন প্যালেস গোলরক্ষক ডিন হ্যান্ডারসন।
তবে বেশিক্ষণ প্রতিরোধ ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন নরওয়েজিয়ান তারকা আর্লিং হালান্ড। অ্যান্তোয়নে সেমেনিওর বাড়ানো ক্রস থেকে ছয় গজ বক্সের বাইরে নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান তিনি। এই গোলের মাধ্যমে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ ছয় ম্যাচে নয়টি গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়লেন হালান্ড, যা প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। প্রথমার্ধের শেষভাগে ফিল ফোডেন ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় ম্যানসিটি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে দুই দল। ৫৪ মিনিটে দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোলটি করেন রায়ার চেরকি। ডি-বক্সে ফিল ফোডেনের পাস পেয়ে দুর্দান্ত দক্ষতায় ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এর ঠিক দুই মিনিট পর আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান কমায় ক্রিস্টাল প্যালেস। ৫৬ মিনিটে ইয়েরেমি পিনোর নেওয়া ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হওয়ার পর গোলরক্ষক দোন্নারুমার পিঠে লেগে জালে জড়ায়।
তবে স্বাগতিকদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়নি ম্যানসিটি। ব্যবধান কমার তিন মিনিটের মাথায় নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি তুলে নেন রায়ার চেরকি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া জোরালো শট প্রতিপক্ষের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে। ম্যাচের শেষদিকে ৮৪ মিনিটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন হালান্ড। ফিল ফোডেনের বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন ৪-১ করেন এই তারকা স্ট্রাইকার।
ম্যাচজুড়ে ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়রা ৯টি অন-টার্গেট শট নেন, বিপরীতে ক্রিস্টাল প্যালেস মাত্র একটি শট লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করল ম্যানসিটি। অন্যদিকে ঘরের মাঠে বড় ব্যবধানে হেরে পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকেই অবস্থান করছে ক্রিস্টাল প্যালেস। এই জয়ের ফলে আগামী ম্যাচগুলোর আগে ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে গেছে।
খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ