বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিষয় ছাড়াও দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার পেশাগত সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন উপায় খতিয়ে দেখা হয়। বৈঠকে বিশেষ করে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, নিয়মিত যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ আয়োজন, বিশেষায়িত কোর্স ও প্রশিক্ষণার্থী বিনিময় এবং সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর উভয় পক্ষ বিশেষ গুরুত্বারোপ করে। বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা উভয় পক্ষ থেকেই অনুভব করা হয়।
এছাড়া বৈঠকে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তর, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, সামরিক সরঞ্জাম ও লজিস্টিকস সহায়তা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতে যৌথ অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক খাতের এই পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে উভয় দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় আস্থার ক্ষেত্র আরও প্রশস্ত হবে।
এ সময় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অনন্য আত্মত্যাগ, উচ্চমানের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের সাহসী ভূমিকা ও অবদান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এই নিষ্ঠা ও দক্ষতা বিশ্ববাসীর কাছে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম মালয়েশিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও পারস্পরিক আলোচনা দুই দেশের মধ্যকার প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানির বাইরে প্রতিরক্ষা কূটনীতিতেও দুই দেশের সম্পর্ক আগামীতে আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


