যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পন্ন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পন্ন

অর্থনীতি প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে হওয়া এই নতুন চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে একে একটি ‘অসাধারণ চুক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোর। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার পথ উন্মোচিত হলো।
গত রোববার (৩০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বিশেষ দূত সার্জিও গোর জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি সপ্তাহে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছেছেন। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। তবে ঠিক কতটি বা কোন মডেলের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা হবে এবং চুক্তির মোট আর্থিক মূল্য কত—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। অবশ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগের প্রাথমিক ক্রয়াদেশের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। সার্জিও গোরের এই বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ৩০ জুলাই ঢাকা সফর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর। সে সময় তার ঢাকা সফরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, বৈঠকে ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ওই সফরের প্রায় এক মাসের ব্যবধানে এই নতুন বোয়িং ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রকাশ পেল। তবে জুলাইয়ের সফরে এই উড়োজাহাজ ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার সময় বাংলাদেশ বোয়িং ক্রয়ের পরিকল্পনা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়। ওই সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়ন ও সেবার মান বৃদ্ধির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের পরিকল্পনা করা হলেও পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে ২৫টিতে উন্নীত করা হয়। বর্তমান নতুন চুক্তির ফলে এই ক্রয়াদেশের পরিধি আরও বৃদ্ধি পেল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরকে যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তুলতে দীর্ঘদিন ধরে উড়োজাহাজ সংখ্যা বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। আকাশপথে যাত্রীদের উন্নত সেবা প্রদান এবং মধ্য ও দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির এসব উড়োজাহাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে এই বিশাল অংকের বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ