যুক্তরাষ্ট্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন

রাজনীতি ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ আলড্রিচ। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী স্মরণে ওয়াশিংটন ডিসিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কূটনৈতিক অবস্থান ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনা, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার এবং বৈষম্য দূর করার লড়াইয়ে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ঐতিহাসিক অবদানের ওপর নির্মিত ‘জুলাইকন্যা’ শীর্ষক একটি বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারাহ আলড্রিচ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীসহ আপামর জনসাধারণের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে জনগণের প্রকৃত অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশ সঠিক পথেই রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নানা চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবেলা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছে। এই সফল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি জুলাইয়ের মহান চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কৃষি, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক ধারাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ ও আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জেন-জি প্রতিনিধিরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, তার ঢেউ আজ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশের এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য ও সার্বিক দিকনির্দেশনা দেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় প্রবাসীদের ভূমিকা তুলে ধরেন। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল-২) নাজনীন সুলতানা।
ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এই স্মরণসভায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও অন্যান্য মার্কিন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধানগণ, স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এবং দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক অংশগ্রহণ এবং মার্কিন প্রতিনিধির জোরালো সমর্থনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল মনে করছে।
আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ