জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সমাধিস্থলে পৌঁছে তিনি এই শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় তাঁর সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা ফাতেহা পাঠ করেন এবং দলের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত চেয়ারপার্সনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেষ্টনী শিথিল হওয়ার পরপরই সমাধিস্থলে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে জিয়া উদ্যানের সমাধি প্রাঙ্গণে সমবেত হন এবং বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন পুরো এলাকা।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন এবং দলটির প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রয়াণের পর দলটির নেতৃত্ব দেন তাঁর সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় ২০২০-এর দশক এবং তৎপরবর্তী রাজনৈতিক পালাবদলের পর, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মসনদে থেকে এবং প্রথমবারের মতো দলের প্রধান নির্বাহী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে, যা দলটির দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে পাঁচ দিনের বর্ণাঢ্য কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে আলোচনা সভা, র্যালি এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। দলের এই গৌরবোজ্জ্বল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।


