আগামী দশ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের রূপরেখা ও ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনের পরিকল্পনা সংসদেই উপস্থাপন করা হবে

আগামী দশ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের রূপরেখা ও ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনের পরিকল্পনা সংসদেই উপস্থাপন করা হবে

বাংলাদেশ ডেস্ক
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী ১০ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এই খাতের পরিকল্পনা নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং খুব দ্রুতই তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান এই কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। নির্ধারিত ওই সময়ে চারটি লিখিত প্রশ্ন এবং ছয়টি সম্পূরক প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।
কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে কাজ প্রায় শেষের পথে। যতটুকু ধারণা দেওয়া সম্ভব, তাতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী খুব শীঘ্রই জাতীয় সংসদ ও দেশের জনগণের সামনে আগামী এক দশকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে কীভাবে সাজানো হবে, তার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরবেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে এই খাতের সুচারু ব্যবস্থাপনা ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন সংক্রান্ত অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জনস্বার্থের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার মুন্নীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতি পরিচালিত হয় দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ সাধনের জন্য। ফুলবাড়িয়া কয়লা খনিটিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা কয়লা খনি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশীয় কয়লা উত্তোলনের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট দূর করা গেলে তা যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে।
তবে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে (ওপেন পিট মাইন) কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে জনবসতি ও কৃষিজমির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সরকারের সতর্ক অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, কয়লা উত্তোলনের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রকল্প এলাকার মানুষের জীবিকা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং তারা যেন কোনো না কোনোভাবে প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্পায়ন, উৎপাদন খাত এবং সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে দেশীয় জ্বালানির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব হবে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ