রাজনীতি ডেস্ক
২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কার জরুরি অবস্থা চলাকালে নানা চড়াই-উতরাই ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কারামুক্ত হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান। সেদিন চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) থেকে মুক্তি লাভ করার পর দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের অধ্যায় শুরু হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে দিনটি ‘তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস’ হিসেবে স্মরণ করা হয়ে থাকে।
১/১১-এর পটপরিবর্তনের পর ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ভোররাতে ঢাকা সেনানিবাসসংলগ্ন মইনুল রোডের বাসা থেকে তারেক রহমানকে আটক করা হয়। এর পর থেকেই তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং কারাগারে বন্দি রাখা হয়। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তার ওপর নানামুখী মানসিক ও শারীরিক চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে পরবর্তীতে দলীয় সূত্রে অভিযোগ করা হয়। রিমান্ডে থাকাকালীন শারীরিক নির্যাতনে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে তার মেরুদণ্ডে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয় বলে জানানো হয়। শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত কারামুক্ত অবস্থায় রাজধানীর পিজি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে একের পর এক মামলায় জামিন লাভের পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের বিছানা থেকেই তিনি মুক্তি পান। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ওই সময় সেনাসমর্থিত সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি নিয়ে তীব্র আলোচনা ছিল। কারামুক্তির পরপরই চিকিৎসকদের পরামর্শ ও উচ্চ আদালতের আদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়। তার সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও একমাত্র কন্যা জাইমা রহমানও লন্ডন গমন করেন। এরপর থেকেই তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করে দলীয় নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং তৎকালীন রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার ও কারাবন্দির ইতিহাস বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারায় একটি অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। ওই সময়কার জরুরি অবস্থা ও সেনাসমর্থিত সরকারের নানা কার্যক্রমের কারণে দেশের রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলেছিল। তারেক রহমানের গ্রেপ্তার, কারাবাস ও পরবর্তীতে বিদেশে অবস্থান দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রমে দীর্ঘ সময়জুড়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিবছর দিনটিকে স্মরণ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে এ দিনটি রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও কারাবাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। দেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে এই ঐতিহাসিক ঘটনার নানা রাজনৈতিক ও আইনি মূল্যায়ন আজও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


