আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা, জানাল সরকার

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা, জানাল সরকার

বাংলাদেশ ডেস্ক

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
আজ জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট হলেও শুধু গ্যাস দিয়ে এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। বিদ্যুৎ, শিল্প ও গৃহস্থালি—এই তিন খাতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে। এ ছাড়া পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে এবং মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমক্ষমতার আরেকটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। দ্রুত এই কেন্দ্র দুটি পূর্ণ ক্ষমতায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আদানির সঙ্গে পূর্বের চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) গত ২১ জুলাই ত্রুটিগ্রস্ত হওয়ায় ২১ থেকে ২২ দিন মেরামতে সময় লাগে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বর্তমানে সরবরাহ ব্যবস্থার প্রায় ৮৮ শতাংশ স্বাভাবিক করা হয়েছে এবং আগামী মাসের শুরুতেই জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তাৎক্ষণিক সংকট নিরসনে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট হওয়ায় এসব কেন্দ্র একটানা চালানো যায় না। বর্তমানে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৩ হাজার ২00 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। বকেয়া পরিশোধে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই অর্থ পরিশোধ করা হলে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি রাত ৮টার মধ্যে বিপণি বিতান ও দোকানপাট বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
মধ্যমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে রুফটপ সোলার বা ছাদের ওপর সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমকে সামনে রেখে সরকারি ও বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তারা উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন, তারা তিন বছর পর্যন্ত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে বিনিয়োগের বড় অংশ তুলে নিতে পারবেন। সোলার প্যানেল আমদানিকারক ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য কাস্টমস ডিউটি ও ভ্যাট ছাড়সহ বিশেষ সুবিধা দিতে এসআরও জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত দেড় যুগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভুল নীতি গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করার কারণে আজকের এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ এবং সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হয়নি। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে এবং গত ৯ আগস্ট বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল। জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগস্ট মাসে জনগণের যে দুর্ভোগ হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে তা হ্রাসে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে এবং দ্রুতই এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ