বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২ হাজার ৫৫৫ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও ও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা অনুমোদন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২ হাজার ৫৫৫ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও ও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা অনুমোদন

শিক্ষা ডেস্ক
দেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত ও এমপিওভুক্তির প্রত্যাশী ১২ হাজার ৫৫৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে নতুন এমপিওভুক্তি, বিএড স্কেল, উচ্চতর গ্রেড এবং পদোন্নতিসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এমপিও কমিটির নিয়মিত সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পেশাগত মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া ও প্রশাসনিক কাজ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক এমপিও কমিটির সভায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নতুন এমপিওভুক্ত হয়েছেন মোট ৬৪১ জন শিক্ষক-কর্মচারী। এর মধ্যে শুধু মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে নতুন এমপিওভুক্ত হয়েছেন ৩৭৮ জন এবং উচ্চমাধ্যমিক বা কলেজ পর্যায়ে এই সংখ্যা ২৬৩ জন। দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা এসব শিক্ষক-কর্মচারীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এই অনুমোদন বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
সভায় শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্যান্য পেশাগত সুযোগ-সুবিধার দাবিও নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএড স্কেল বা প্রশিক্ষণভিত্তিক উচ্চতর বেতন গ্রেড লাভ করেছেন ৩ হাজার ৯৫ জন শিক্ষক। এ ছাড়া বিভিন্ন স্তরে উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন মোট ২ হাজার ৩৭১ জন শিক্ষক-কর্মচারী, যার মধ্যে স্কুলের ২ হাজার ৮০ জন এবং কলেজের ২৯১ জন শিক্ষক রয়েছেন। পদোন্নতি পেয়েছেন ২৯৫ জন শিক্ষক, যারা প্রত্যেকেই স্কুল পর্যায়ে কর্মরত। নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পূর্ণ করা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণের সাপেক্ষে এসব প্রশাসনিক ও আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি প্রশাসনিক ও তথ্য সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ও সভায় নিষ্পত্তি করা হয়। সভায় মোট ১ হাজার ৩৫৪ জনের এমপিও তথ্য সংশোধন করা হয়েছে; যার মধ্যে স্কুলের ১ হাজার ১৯১ জন এবং কলেজের ১৬৩ জন রয়েছেন। বিভিন্ন কারণে ইনডেক্স ডিলেট বা বাতিল করা হয়েছে ৮০৫ জনের, যার মধ্যে স্কুলের ৬৭০ এবং কলেজের ১৩৫ জন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বকেয়া বেতন-ভাতা বা এরিয়া বিল পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৯১ জন শিক্ষক-কর্মচারী (স্কুলের ৩ হাজার ৪১৫ জন এবং কলেজের ৫৭৬ জন)। পাশাপাশি প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে স্কুল পর্যায়ের তিনজন শিক্ষককে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক ও পেশাগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এমপিও কমিটির এই সভা ও সিদ্ধান্তগুলোর নিয়মিত বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট দূরীকরণ এবং তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ও জটিলতা নিরসনে এসব পদক্ষেপ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধিত এমপিও এবং বকেয়া বিলের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ