বাংলাদেশ ডেস্ক
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি কোনো কৃপা বা সাধারণ দাবি নয়, এটি তাদের মৌলিক নাগরিক অধিকারের অংশ। দেশের সাড়ে সাত কোটি শ্রমজীবী মানুষের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শোভন কাজ এবং প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।
শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) আয়োজিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিল্স) ১০ম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও সাধারণ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
ড. মাহদী আমিন বলেন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শোভন কাজের পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রমিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে হবে। জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো এই শ্রমজীবী মানুষ। তাই শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক আস্থা এবং দায়িত্বশীল পরিবেশ বজায় রাখতে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। দেশের সামগ্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের স্বার্থেই শ্রম খাতের এসব মৌলিক বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিল্স) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঞাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত ও সূচনা বক্তব্য দেন বিল্সের মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।
অনুষ্ঠানে শ্রম খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় দেশের বিভিন্ন শ্রমজীবী সংগঠনের শীর্ষ নেতা, সরকারি নীতিনির্ধারক, বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকর্তা, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের শ্রম খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় ত্রিপক্ষীয় আলোচনা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য শ্রম খাতের সংস্কার এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং আন্তর্জাতিক শ্রম মান (আইএলও কনভেনশন) বজায় রাখতে কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও যথাযথ মজুরি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের এমন ইতিবাচক ঘোষণা দেশের শ্রমবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এবং মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


