রাজধানী ডেস্ক
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটি তার প্রথম সরকারি সফর। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এই জনপদে উচ্চশিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে দুই দিনের সরকারি সফরে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। এদিন হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণের পর জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা জানানো হয়। পরে সার্কিট হাউসে তাকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সফরের প্রথম দিনে তিনি তার পিতা-মাতার কবর জিয়ারত করেন এবং ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তাকে একনজর দেখার জন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে।
উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘকাল ধরে জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সুধী সমাজ। উচ্চশিক্ষার জন্য এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে রংপুর বা অন্যান্য বড় শহরের বিদ্যাপীঠের ওপর নির্ভর করতে হতো। স্থানীয়দের মতে, প্রস্তাবিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে ঠাকুরগাঁও ছাড়াও পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যয় সংকোচন সম্ভব হবে। এছাড়া এর মাধ্যমে অঞ্চলটির আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জ্ঞানচর্চা ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতির নিজ বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রামের কর্মসূচি রয়েছে। এরপর তিনি সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়।


