বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বারোপ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বারোপ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো জোরদার করার লক্ষ্যে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা ও নগর ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। আজ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার এই সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই বহুমাত্রিক সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরো এগিয়ে নিতে সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর তিনি জোর দেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে উভয় দেশেরই একসঙ্গে কাজ করার বিপুল সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধি বাড়াতে এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে বৈঠকে অভিমত প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্র প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রী দক্ষ জনশক্তি বিদেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে ইতালির সরকারের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। বাংলাদেশে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষক তৈরির পাশাপাশি ইতালিতে কর্মসংস্থানে ইচ্ছুক আগ্রহী দক্ষ কর্মীদের জন্য মানসম্মত ভাষাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টির উপায় নিয়ে বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে অভিবাসী কর্মীরা গন্তব্য দেশের সংস্কৃতি ও ভাষার সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারবেন এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা ও উপযোগিতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের গতিশীল ভূমিকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দুই দেশের অংশীদারত্বকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণে তার দেশের দৃঢ় আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে নগর ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দেশ অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইতালি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শ্রমবাজার ও বাণিজ্যিক অংশীদার। ইউরোপের দেশটিতে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে থাকেন। বর্তমান সরকারের এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং ভাষা প্রশিক্ষণের মতো প্রায়োগিক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ধারা আরো বেগবান হবে। এর ফলে প্রবাস আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে এটি দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ