আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান ও কানাডার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কানাডার পক্ষ থেকে ইরানের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানোর পর দেশটির তীব্র সমালোচনা করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই কানাডার বিরুদ্ধে ‘কৌশলগত বিভ্রান্তি’ ছড়ানোর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, একদিকে কানাডা শান্তি, নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতার কথা বলছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করছে। তিনি অভিযোগ করেন, কানাডার বর্তমান অবস্থান কোনো দায়িত্বশীল রাষ্ট্র পরিচালনা বা কূটনীতির পর্যায়ে পড়ে না, বরং এটি তাদের ঐতিহ্যগত নীতি থেকে সরে এসে ভীতি ও চাপের কাছে আত্মসমর্পণের শামিল। ইরানের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর আগপর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরাপদ ছিল। বর্তমান আঞ্চলিক সংকটের জন্য তেহরানকে দায়ী করা পুরোপুরি ভিত্তিহীন।
এর আগে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এবং অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন এক যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের নীতি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। কানাডীয় মন্ত্রীদের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল বাধাগ্রস্ত করা, পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দিয়ে বৈশ্বিক শান্তি বিঘ্নিত করছে ইরান। জি-সেভেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ পুনরায় সচল করতে এবং ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রাখতে কানাডা বদ্ধপরিকর বলে ওই বিবৃতিতে জানানো হয়। ২০১০ সাল থেকে কানাডা বিভিন্ন আইনি কাঠামোর আওতায় প্রায় ৪৯২ জন ইরানি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং কৌশলগত বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের এই দীর্ঘমেয়াদি বিরোধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি তেল পরিবহন ও সরবরাহ পথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিতে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত মতপার্থক্য এবং টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে তেহরান ও অটোয়ার এই কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।


