আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দক্ষিণ লেবাননের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় দুই শিশু ও চার নারীসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। গত রাতে কাফার রুম্মান এলাকার একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। এর পাশাপাশি পৃথক আরেকটি হামলায় আরও একজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই অঞ্চলে সামরিক সংঘর্ষ ও হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত রাতে কাফার রুম্মানের একটি তিনতলা ভবনে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে ঘটনাস্থলেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে চলা পৃথক আরেকটি হামলায় একটি গাড়ি লক্ষ্যবস্তু করা হলে তাতে এক স্বাস্থ্যকর্মী প্রাণ হারান। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ধারাবাহিক হামলায় মোট ২৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ২ মার্চ থেকে চলমান এই সংঘাতে লেবাননে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৬২ জনে পৌঁছেছে। সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কাফার রুম্মান ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, লেবানন থেকে তাদের সামরিক বাহিনীর ওপর হিজবুল্লাহর দুটি বিস্ফোরক ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। আইডিএফের দাবি, অস্ত্র স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা বেশ কয়েকজন সশস্ত্র সদস্য এবং হিজবুল্লাহর বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেই এই বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তবে হামলায় বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনাগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, এই সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সূত্র জানিয়েছে, চলমান এই সামরিক পদক্ষেপ গত জু মাসে মার্কিন মধ্যস্থতায় অর্জিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সম্পূর্ণ ভেস্তে দেওয়ার উপক্রম করেছে। লেবাননের রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক উত্তেজনা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি অবিলম্বে এই সহিংসতা ও সামরিক আগ্রাসন বন্ধে ইসরায়েলের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন সীমান্তে এই নতুন মাত্রার সংঘাত কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই নষ্ট করছে না, বরং কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের পথও দিন দিন সংকুচিত করে তুলছে। হামলা ও পাল্টা হামলার এই ধারাবাহিকতা দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।


