২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে কেবলই তরুণ ফুটবলার হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন কলম্বিয়ান তারকা হামেস রদ্রিগেজ। প্রথম আসরেই আলো ঝলমলে পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছিলেন তিনি। টুর্নামেন্টর সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে জিতেছিলেন গোল্ডেন বুটও। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে স্মরণীয় করে রেখেছিলেন সেই বিশ্বকাপ। এরপর ঠিক এক যুগ পর কলম্বিয়ার জার্সিটাই তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
দীর্ঘ ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে বিদায় জানালেন রদ্রিগেজ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন এই কলম্বিয়ান তারকা।
বিদায়ী বার্তা দিয়ে স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘আজ আমি মন থেকে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। অনেক বছর, অনেক ম্যাচ এবং আনন্দ আর কঠিন মুহূর্তগুলোর পর আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ করার সময় এসেছে: কলম্বিয়ান জাতীয় দলের সঙ্গে আমার যাত্রা।’
রদ্রিগেজের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল, ২০১১ সালের অক্টোবরে বলিভিয়ার বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচেই জয়সূচক গোল করেন তিনি। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে কলম্বিয়া দলের নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন। ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে না পারলেও, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৬ সালে হওয়া বিশ্বকাপে কলম্বিয়া দলের অন্যতম ভরসার নাম ছিলেন রদ্রিগেজ।
২০১৪ সালে কলম্বিয়ার হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স করেন রদ্রিগেজ। মাত্র ৫ ম্যাচ খেলে ৬ গোল করেন তিনি। এর পুরষ্কার স্বরূপ জেতেন গোল্ডেন বুট। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মহাদেশীয় প্রতিদ্বন্দী উরুগুয়ের বিপক্ষে করেন দুর্দান্ত এক গোল। যা তার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ওই আসর মাতানো তরুণ রদ্রিগেজের দিকে নজর পড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের। বিশ্বকাপ শেষে তাই তার সঙ্গে চুক্তিও করে তারা।
বিদায়ী বার্তায় রদ্রিগেজ বলেন, ‘এই জার্সি পরা ছিল একটি স্বপ্ন, পাশাপাশি বিশাল দায়িত্বও ছিল। প্রত্যেকবার যখন আমি মাঠে নামতাম, বুঝতে পারতাম আমি শুধু আমার জন্য খেলছি না। আমার পরিবার, সতীর্থ, হাজারো কলম্বিয়ানের জন্য খেলছি। যারা স্বপ্ন দেখত।’
কলম্বিয়ার জার্সিতে ১৩১ ম্যাচ খেলে ৩১ গোল ও ৪৩ অ্যাসিস্ট আছে রদ্রিগেজের নামের পাশে। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় তার অধিনায়কত্বে ফাইনাল খেলেছিল কলম্বিয়া। কিন্তু আর্জেন্টিনা তাদের হারিয়ে ২৩ বছর পর প্রথম শিরোপা জেতে।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘১০ নম্বর জার্সি পরার সম্মান পেয়েছিলাম আমি এবং অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও পরেছিলাম। সম্মান, দায়িত্ববোধ ও কলম্বিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার তাৎপর্য অনুধাবন করে আমি সবসময় এটি করার চেষ্টা করেছি। ভালো দিন যেমন ছিল, খুব কঠিন দিনও ছিল। কিন্তু এই রঙয়ের গর্ববোধ করা কখনও থামাইনি।’
গত ৭ জুলাই বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের কাছে টাইব্রেকারে হেরে যাওয়া শেষ ষোলোর ম্যাচটি হয়ে থাকল রদ্রিগেজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।

