খেলাধুলার সার্বিক প্রসার ও অনুশীলনের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে সুসংগঠিত করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) দিনাজপুর সরকারি কলেজে আয়োজিত ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা’র (রংপুর বিভাগ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খেলাধুলার উন্নয়ন, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো দূরদর্শী পদক্ষেপগুলো দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফসল, যা গত ৭ মাসে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ক্রীড়া খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্রীড়াবিদদের পেশাগত স্বীকৃতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হয়েছে এবং চলতি মাসের শেষের মধ্যেই আরও কিছু খেলোয়াড় ও কোচকে এই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আনা হবে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্বাচিত ৩০৬ জন উদীয়মান ও প্রতিভাবান অ্যাথলেট বর্তমানে বিকেএসপিতে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। সারাদেশে আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো তৈরির লক্ষ্য নিয়ে 'স্পোর্টস ভিলেজ' প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার ও নতুন প্রতিভা অন্বেষণে দিনাজপুর বিকেএসপিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে।
যুব সমাজের স্বাবলম্বিতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির চিত্র তুলে ধরে আমিনুল হক উল্লেখ করেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে বর্তমানে ৮৩টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, গত ৬ মাসে ফ্রিল্যান্সিং খাত থেকে ৩৪ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। এছাড়া সরকারের 'আর্ন' (EARN)-প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৯ লাখ যুব ও যুব নারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে, যা দিনাজপুরের ১০টি উপজেলাতে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে।
প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবাই একসাথে কাজ করে এবং খেলাধুলার সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই একটি সুন্দর, সুস্থ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি।

