বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির অষ্টম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

থাইরয়েড রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। শুক্রবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির (বিটিএস) অষ্টম আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

‘থাইরয়েড সেবায় শিক্ষা, উদ্ভাবন ও কার্যকর উদ্যোগ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে চিফ হুইপ বলেন, মানসম্মত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। থাইরয়েডসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এম এ করিম এবং ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিটিএসের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. নাসরীন সুলতানা। সভাপতিত্ব করেন বিটিএসের সভাপতি ও নিনমাসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ নারী এবং এসব নারীর ৬০ শতাংশই জানেন না যে তাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া ২ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতি ২ হাজার ৩০০ শিশুর মধ্যে একজন থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

সম্মেলনে দিনব্যাপী তিনটি বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে থাইরয়েড রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি, থাইরয়েড ক্যানসারের অস্ত্রোপচার, গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের সমস্যা, আয়োডিনের ঘাটতি, থাইরয়েড-সংক্রান্ত চোখের রোগ এবং রোগী পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

সোহরাওয়ার্দী ইনমাসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জীনাত জাবীন, অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিমসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন।

সম্মেলনের ফ্রি পেপার ও পোস্টার সেশনে ১২টি মৌখিক ও ১০টি পোস্টার উপস্থাপনা করা হয়। এতে অনির্ণীত থাইরয়েড রোগ, থাইরয়েড অটোইমিউনিটি, রেডিওআয়োডিন চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, জিনগত বিশ্লেষণ ও বিরল রোগের কেস নিয়ে আলোচনা হয়। বিচারকদের মূল্যায়নের পর সেরা উপস্থাপকদের পুরস্কার দেওয়া হয়।

জাতীয়