হেফাজতের অধীনে ঐক্য: যে প্রক্রিয়ার কথা জানাল ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে কওমি অঙ্গনভিত্তিক সাতটি ইসলামি দলকে নিয়ে শুরু হওয়া নতুন ঐক্য প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও রূপরেখা তুলে ধরেছে অন্যতম প্রধান দুই শরিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। ঐক্যের চরিত্র রাজনৈতিক হবে নাকি কেবল ইস্যুভিত্তিক এবং দলগুলো অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক বলয়ে থাকবে কি না—তা নিয়ে দল দুটির পক্ষ থেকে প্রক্রিয়ার সুস্পষ্ট অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই ঐক্যের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ অঙ্গীকারের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জানান, সাতটি দল এক হওয়ার পরও যদি ভেতর থেকে কেউ বিএনপি কিংবা জামায়াতের দিকে তাকিয়ে থাকে, তবে এই ধরনের ঐক্যের কোনো রাজনৈতিক সুফল আসবে না। তাঁর মতে, ‘এতে ঐক্য হয়ে কোনো লাভ নেই এবং তা কোনো ফলপ্রসূ ফলাফল বয়ে আনবে না। একটি শক্তিশালী বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে হলে এই সমঝোতায় থাকা দলগুলোর অন্য কোনো রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকা চলবে না।’

বিপরীতে, ঐক্যের ক্ষেত্র ও দলীয় স্বাধীনতাকেন্দ্রিক ভিন্ন প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দীন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ধর্মীয় ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে এই দলগুলো একই প্ল্যাটফর্ম বা ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে পারে।

তবে রাজনৈতিক সমীকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কোনো জোট, মোর্চা কিংবা নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে প্রতিটি দলের আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার থাকতে হবে।’ তার মতে, নির্বাচন ও দলীয় রাজনীতির বিষয়টি স্ব স্ব দলের নিজস্ব নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েই ইসলামি দলগুলোর বৃহত্তর এই সমন্বিত অবস্থান গড়ে তোলা সম্ভব।

কওমি ঘরানার এই উদ্যোগ নিয়ে দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের এমন পরস্পরবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করে তুলেছে যে, হেফাজতের ব্যানারে সাত দলীয় এই ঐক্য চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার আগে রাজনৈতিক স্বকীয়তা ও নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণই এখন সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয়