দুয়ার খুলল ওসমানী উদ্যান, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

উদ্বোধনের পর স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি আধুনিকায়ন করা উদ্যান ঘুরে দেখেন এবং সেখানে স্থাপিত গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই অনুষ্ঠানে আধুনিকায়ন করা ওসমানী উদ্যানও দুয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছেন তিনি।

তার উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে তিনি স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং রাজধানীর নাগরিক পরিবেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে এ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে ওসমানী উদ্যানে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উঁচু এই ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’।

প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটির গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহীদের নাম। এর সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।

স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে রয়েছে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট উঁচু একটি রিলিফ ভাস্কর্য। ভেতরে রয়েছে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে সাত ফুট উঁচু আরেকটি রিলিফ ভাস্কর্য।

ভাস্কর্যগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান।

রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানেরও আধুনিকায়ন হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় উদ্যানটিকে সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন গাছ লাগানো এবং সবুজ দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে।

উদ্যানটিতে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, গাড়ি রাখার জায়গা ও জলাশয়ের ঘাট।

এ ছাড়া বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুই স্তরে সাজানো উদ্যানটিতে সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের পথও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মূল্যস্ফীতির হিসাব আর মানুষের জীবনের ফারাক

তৌফিক ভাই, আপনার দেওয়া সাহসেই লিখছি এই বিদায়গাথা

জি ডব্লিউ চৌধুরী: বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেননি যে বাঙালি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী

অর্থনীতির নোবেল, আস্থার সংকট ও বাংলাদেশের বাস্তবতা

জাতীয়