পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সৌদিতে আটকা ওমরাহ যাত্রীদের ফেরানো হবে: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

• শাহজালালে প্রবাসীদের জন্য ২০০ লাগেজ ট্রলি হস্তান্তর

• জাপানে বাংলাদেশি কর্মীরা পাবেন স্থানীয় শ্রমিকদের সমান আইনি সুরক্ষা

সৌদি আরবে আটকে পড়া ওমরাহ যাত্রীদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক ওমরাহযাত্রী সেখানে আটকে পড়েছেন। বিকল্প পথে ফেরার চেষ্টা করেও ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাঁদের অনেকে দেশে ফিরতে পারছেন না।

আজ সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ পরিবহনের জন্য ২০০টি ট্রলি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আটকে পড়া ওমরাহযাত্রীদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তাঁদের ফেরানোর নির্দিষ্ট সময়সূচি জানাননি তিনি।

বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের যাতায়াত সহজ করা এবং লাগেজ পরিবহনের ভোগান্তি কমাতে ২০০টি লাগেজ ট্রলি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, এসব ট্রলি যুক্ত হওয়ায় প্রবাসী কর্মীদের ভোগান্তি কমবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেও আরও ট্রলি যুক্ত করা হবে।

এ সময় মন্ত্রী বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্ক পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় জাপানের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত কর্মসংস্থানবিষয়ক সমঝোতা স্মারকের সুবিধাগুলোও তুলে ধরেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী জানান, গত ১৭ অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, জাপানে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা দেশটির স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন। এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চ বেতনে কাজ এবং জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ বাড়বে। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও এতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা তাঁদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। এ কারণে কোনো নারী কর্মীকে জোর করে দেশে ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতাও চুক্তিতে রাখা হয়নি।

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো চিঠির জবাব পাওয়া যায়নি। জবাব পাওয়া গেলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

জাতীয়