সারাদেশে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে সরকার, নিয়োগ পাবেন এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী

সারাদেশে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে সরকার, নিয়োগ পাবেন এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ ডেস্ক

প্রাথমিক পর্যায়ে জটিল ও সাধারণ রোগ শনাক্তকরণের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সারাদেশে ‘হোম-টু-হোম হেলথ স্ক্রিনিং’ বা ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশজুড়ে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

রাজধানীর গুলশানের একটি কমিউনিটি পার্কে আয়োজিত জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত এক নাগরিক সচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এ সংক্রান্ত সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি বাসাবাড়িতে গিয়ে সাধারণ নারীদের স্তন ও জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে কীভাবে শনাক্ত করতে হয়, সে বিষয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা দেবেন। নারীদের মধ্যে এই দুটি ঘাতক ব্যাধির প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও দ্রুত চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি করে আধুনিক মেডিকেল কিট বক্স প্রদান করা হবে। এর সাহায্যে তারা ঘরে বসেই নাগরিকদের রক্তচাপ, ওজন, ডায়াবেটিস ও রক্তে লিপিড প্রোফাইলসহ বিভিন্ন জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে করে প্রান্তিক ও সাধারণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় প্রবেশাধিকার সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যদানকালে দেশে অপ্রয়োজনীয় ‘সিজারিয়ান সেকশন’ বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসূতির হার বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাতে জানানো হয়, বর্তমানে শিশু জন্মের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রবণতা বহুগুণ বেড়েছে, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রে নবজাতক শিশুর প্রাক-প্রাকৃতিক পুষ্টির প্রধান উৎস ‘শালদুধ’ পাওয়ার সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তন, সচেতনতার অভাব এবং পারিবারিক নানা চাপের কারণে মায়ের বুকের দুধ পান করানোর হার কমে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। এই পরিস্থিতি নবজাতক ও শিশুদের মারাত্মক পুষ্টিহীনতা এবং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেন বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা।

একটি সুস্থ ও জ্ঞানভিত্তিক সমৃদ্ধ জাতি গঠনের জন্য ব্যক্তিগত ও পরিবেশগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জনসচেতনতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়। আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ