শিক্ষা ডেস্ক
জীবিকার তাগিদ আর স্বজন হারানোর শোককে এক করে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকন দাড়িয়ার পড়াশোনার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। বাবার দাফন সম্পন্ন করার পর রাতেই কর্মস্থলে নিরাপত্তা কর্মীর দায়িত্ব পালন এবং পরদিন সকালে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হওয়ার ঘটনাটি জানা যাওয়ার পর সরকার প্রধানের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলমান এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে যেন ইকনকে রাতের শিফটে চাকরি করতে না হয়, সে জন্য অবিলম্বে তাকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তার ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষার যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী ইকন দাড়িয়া সংসারের আর্থিক টানাপোড়েন মেটাতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এটিএম বুথে রাতের শিফটে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। পরিবারে উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন তার বাবা গত মঙ্গলবার সকালে আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গোপালগঞ্জে পৈতৃক ভিটায় বাবার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
বাবার দাফন শেষ করে ওই দিন রাতেই ইকনকে ফিরে আসতে হয় বাগেরহাটের কর্মস্থলে। সারারাত বুথ পাহারা দেওয়ার পর সকালে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরিবারের মূল উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মারা যাওয়া এবং বড় ভাই পূর্বের এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারানোর কারণে পুরো পরিবারের দায়িত্ব এখন ১৮ বছর বয়সী ইকনের কাঁধে।
ইকনের দাদা বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাকরি সূত্রে সেখানে বসবাস শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে অবসরজনিত কারণে তিনি গোপালগঞ্জে ফিরে গেলেও ইকনের পরিবার বাগেরহাটে একটি ভাড়া বাসায় স্থায়ীভাবে থেকে যায়। বর্তমানে মা ও অসুস্থ ভাইকে নিয়ে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই শিক্ষার্থী। শিক্ষামন্ত্রীর এই সহায়তা বার্তা পাওয়ার পর ইকন তার ভবিষ্যৎ পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই মানবিক পদক্ষেপে ইকন দাড়িয়ার শিক্ষা জীবনের অনিশ্চয়তা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


