দেশের বাজারে আবার কমলো সোনা ও রুপার দাম

দেশের বাজারে আবার কমলো সোনা ও রুপার দাম

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বাজারে টানা কয়েক দফা মূল্য সমন্বয়ের ধারাবাহিকতায় সোনার দাম আবারও কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) মূল্যহ্রাসের কারণে প্রতি ভরি সোনায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩২৪ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে অলংকার তৈরির জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ক্যারেটের রুপার দামও। আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন মূল্য তালিকা কার্যকর করা হয়েছে।

বাজুসের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৪ জুলাই সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দরপতন এবং দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দর হ্রাসের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সার্বজনীন স্বার্থে সর্বসম্মতিক্রমে এই নতুন মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

নতুন মূল্যসূচি অনুযায়ী, বাজুস নির্ধারিত সর্বাধুনিক মানদণ্ড ও ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা এখন থেকে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায় বিক্রি হবে। পূর্ববর্তী কার্যদিবস পর্যন্ত এ মানের সোনার প্রতি ভরির বাজারমূল্য ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। ফলে সবচেয়ে ভালো মানের সোনায় ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা হ্রাস পেল।

একই সঙ্গে অন্যান্য ক্যারেটের সোনার মূল্যেও উল্লেখযোগ্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বাজারে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকায় কেনাবেচা হবে এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকায়।

সোনার মূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও নিম্নগতির এই প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এবার রুপার বাজারেও নিম্নমুখী প্রভাব দেখা গেছে। বাজুস নির্ধারিত নতুন তালিকা অনুসারে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। এর পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৫৮ টাকায়।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর অস্থিরতা এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে কাঁচামালের সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতি নিয়মিত এই দাম সমন্বয় করে থাকে। সোনার দাম কমানোর ফলে সাধারণ ক্রেতা ও অলংকার প্রস্তুতকারক উভয় পক্ষই কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে অলংকার কেনাকাটায় এই মূল্য হ্রাস ভোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ কমাবে। তবে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বাজুস ভবিষ্যতে সার্বিক বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আবারও দাম পর্যালোচনার কথা ইঙ্গিত দিয়েছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ