প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ

প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ

জাতীয় ডেস্ক

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও দেশব্যাপী আন্দোলনের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠান।

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংকট ও সরকারি পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগে বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনার পর শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নেন।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির একাধিক জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক ও নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে আসে। এর ফলে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। একাধিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অপরাধী চক্রের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনা ও পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি পদত্যাগের দাবি তুলে দেশজুড়ে টানা বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করে আসছিল। ককরোচ জনতা পার্টিসহ (সিপিজি) বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন দেশব্যাপী এই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল—প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং নীতিগত ব্যর্থতার দায়ে শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ।

বিক্ষোভের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকায় ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের পথ বেছে নেন। পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর তিনি সংক্ষিপ্ত ব্যক্তব্যে জানান, নৈতিক দায়িত্ববোধ এবং প্রশাসনিক কাঠামোর স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মাধ্যমে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান ত্রুটি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে। এটি কেবল একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, বরং দেশের সার্বিক পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতির নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে নতুন শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট পুরোপুরি দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ