অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
সিলেট শহরের যানজট নিরসন ও সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে আম্বরখানা থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণসহ একাধিক মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এছাড়া নগরীর দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রাকৃতিক ছড়া ও খাল সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শনিবার সিলেট সার্কিট হাউসে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি জানান, সিলেট নগরীর প্রাত্যহিক যানজট কমাতে আম্বরখানা থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাক্কাতুরা এবং লাক্কাতুরা থেকে টিবি গেট পর্যন্ত একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজারগামী ব্যস্ততম সড়কটি প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব সড়ক অবকাঠামো নির্মিত হলে সিলেট নগরী ও দূরপাল্লার সড়ক যোগাযোগে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতায় থাকা ৪২টি ওয়ার্ডের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। চলমান প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি সওজ ও সিসিক কর্মকর্তাদের দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সিলেট একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগরীতে পরিণত হবে।
নগরীর জলাবদ্ধতা সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্ষাকালে বন্যা ও কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে শহরের ছড়া ও খালগুলোর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় রাখা জরুরি। পানির মূল উৎস থেকে নদী পর্যন্ত প্রাকৃতিক প্রবাহ সচল রাখতে নিয়মিত খাল খনন ও সংরক্ষণ করতে হবে। এ বিষয়ে একটি স্থায়ী টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নগর কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেওয়া হয়।
উক্ত যৌথ সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


