রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল গঠনে ইসি: স্পিকারের সঙ্গে দ্রুত বৈঠকের সিদ্ধান্ত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল গঠনে ইসি: স্পিকারের সঙ্গে দ্রুত বৈঠকের সিদ্ধান্ত

জাতীয় ডেস্ক

দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ত্বরান্বিতকরণ ও আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই লক্ষ্যে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সময় চেয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পক্ষ থেকে বার্তা পাঠানো হচ্ছে। সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নির্বাচনের তফসিল ও ভোটের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশন ভবনে সিইসির নিজ কক্ষে আয়োজিত এক অনির্ধারিত পর্যালোচনা বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, আইনগত ধারা ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছে। বৈঠক শেষে জ্যেষ্ঠ সচিব সাংবাদিকদের আরও জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারাক্রম ও পদ্ধতি অনুসরণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ নির্ধারিত হচ্ছে।

আইন ও সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রূপরেখা ও সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য সংসদের স্পিকারের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠক করা বাধ্যতামূলক। সংবিধানে উল্লেখিত কাঠামো অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটাভুটির মাধ্যমে। ফলে এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মধ্যে নিবিড় প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। সে কারণেই সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন কমিশন ও সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াসংক্রান্ত আলোচনা সম্পাদন করবেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কার্যক্রমের প্রথম ও প্রধানতম আইনি বাধ্যবাধকতা হলো সঠিকভাবে হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা। এই নির্বাচনে কেবল জাতীয় সংসদের বহাল সদস্যগণই ভোটার হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে থাকেন। প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে বর্তমান সংসদ সদস্যদের একটি পূর্ণাঙ্গ নাম ও তথ্যের তালিকা ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হবে। জাতীয় সংসদ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ করবে। ভোটার তালিকা প্রস্তুত হওয়ার পর স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কমিশন তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করবে।

বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পর্কিত আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কিংবা কোনো বিশেষ কারণে পদটি শূন্য হলে সংবিধান বর্ণিত সময়সীমার মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই নির্বাচনে যেকোনো যোগ্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের জন্য একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং অপর একজন সংসদ সদস্যকে সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর করতে হয়। পরবর্তীতে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে নির্ধারিত দিনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটাভুটি সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত প্রশাসনিক ও আইনি প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সিংহভাগ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অনির্ধারিত বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার বিভিন্ন ধারা নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কাছ থেকে সাক্ষাৎ ও বৈঠকের চূড়ান্ত সময়সূচি নিশ্চিত হওয়া মাত্রই কমিশন পুনরায় বৈঠক ডেকে আনুষ্ঠানিক তফসিল প্রকাশের সার্বিক সময়সূচি চূড়ান্ত করবে। এই সমন্বয় বৈঠকটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছে নির্বাচন কমিশন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ