। তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে চলমান বার্তা আদান-প্রদান ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও কঠোর সামরিক অভিযান পরিচালনা করার বিষয়ে হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, দুটি পথই তাদের বিবেচনায় রয়েছে। আলোচনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির কূটনৈতিক নিষ্পত্তির সুযোগ যেমন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, ঠিক তেমনি জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে সামরিক শক্তির পুনর্ব্যবহারের প্রস্তুতিও প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, মার্কিন প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানের কারণেই তেহরান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটন আগে থেকেই এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ইরানি পক্ষ আলোচনার বিষয়ে আগ্রহ দেখাত না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশ্বাস দেন যে চলমান বার্তা আদান-প্রদান মধ্যপ্রাচ্যের জটিল নিরাপত্তা সংকটের স্থায়ী সমাধানে সহায়ক হতে পারে, তবে ফলাফল সন্তোষজনক না হলে সামরিক বিকল্প প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্র পিছপা হবে না।
কূটনৈতিক এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক সাম্প্রতিক অভিযোগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইটভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে সহায়তা করছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ট্রাম্প জানান, তিনি সরাসরি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করবেন।
এদিকে ইসরায়েলের দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশলগত ব্যবধান সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে সার্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতে তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের কৌশলগত লক্ষ্য এক হলেও কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য বিদ্যমান। হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক রূপরেখা ছাড়াও লেবাননের সাম্প্রতিক ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রসারে আব্রাহাম চুক্তির সার্বিক দিক পর্যালোচিত হবে।
এর পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও ওয়াশিংটনে পৃথক বৈঠকের কথা রয়েছে ট্রাম্পের। বৈঠকে ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা করা হবে।
সম্প্রতি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী হরমুজে বাণিজ্য তরী লক্ষ্য করে হামলা এবং তৎপ্রেক্ষিতে মার্কিন বাহিনীর পাল্টা সামরিক অভিযানের পর দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুই সপ্তাহের পাল্টাপাল্টি সামরিক মহড়া ও হামলার পর গত কয়েক দিন ধরে রণক্ষেত্রে একধরনের সাময়িক স্থবিরতা ও তুলনামূলক শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে। তবে চলমান শান্ত পরিস্থিতির মাঝে শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক যোগাযোগ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কতখানি কার্যকর ভূমিকা পালন করে, সেদিকে বিশ্ব কূটনীতির নজর রয়েছে।


