এনসিপির রাজনৈতিক আচরণ ও হবিগঞ্জের সংঘর্ষ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া রাশেদ খাঁনের

এনসিপির রাজনৈতিক আচরণ ও হবিগঞ্জের সংঘর্ষ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া রাশেদ খাঁনের

রাজনীতি ডেস্ক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, নেতাদের বক্তব্য এবং বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি তাদের আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপির নেতারা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক ময়দানে উত্তাপ সৃষ্টি করছেন এবং উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করছেন।

রাশেদ খাঁন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এনসিপির শীর্ষ নেতারা ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির নামে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও নেতাদের প্রতি কটু বাক্য প্রয়োগ করছেন। তাদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আক্রমণ করছেন, যা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। একই সাথে তিনি এনসিপির বক্তব্যের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, দলটির নেতারা ইচ্ছা করেই উসকানিমূলক পরিবেশ সৃষ্টি করছেন যাতে পরবর্তীতে নিজেদের ‘ভিক্টিম’ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। তিনি সতর্ক করে দেন যে, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও শালীনতা বজায় না রাখলে স্থানীয় জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ যে ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে, তা পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতময় হওয়া থেকে রক্ষা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এই রাজনৈতিক বিতর্কের পটভূমিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জ শহরের থানার মোড় এলাকায় এনসিপির পূর্বনির্ধারিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের সাথে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের স্থানীয় সমর্থকদের এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমাবেশস্থল ও তার আশপাশের এলাকা ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে এনসিপির শীর্ষ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় একটি ব্যাংকের কার্যালয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন এবং সেখানে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

এই সংঘর্ষের ঘটনায় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এবং সংগঠনটির জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মুবিনসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে নেতাকর্মীদের বহনকারী কয়েকটি যানবাহনেও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অবরুদ্ধ নেতাদের উদ্ধার করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর এই উসকানিমূলক বক্তব্য ও সংঘাতময় অবস্থান সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গণতান্ত্রিক ধারায় গঠনমূলক সমালোচনার বদলে অসংযমী ভাষা ও সহিংসতার ব্যবহার রাজনীতিতে অপ্রীতিয়কর পরিবেশ সৃষ্টি করছে, যা দ্রুত নিরসন হওয়া প্রয়োজন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ