নিয়মবহির্ভূত নার্সিং ও মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

নিয়মবহির্ভূত নার্সিং ও মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

জাতীয় ডেস্ক

দেশের স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। দেশে যত্রতত্র গড়ে ওঠা যেসব নার্সিং ও মেডিকেল কলেজ সরকারি নীতিমালা ও নির্ধারিত মানদণ্ড মানতে ব্যর্থ হবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে সরকার কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার সরকারের এই অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। দেশের চিকিৎসা ও নার্সিং শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক চিকিৎসা সেবার পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বাস্থ্য খাতের সাম্প্রতিক নানা পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা জানান।

বিশেষ সহকারী জানান, দেশের নার্সিং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ফিলিপাইনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির সমৃদ্ধ অভিজ্ঞাতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে দক্ষ নার্স ও প্রশিক্ষক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের যৌথ উদ্যোগে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এই সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায় ফিলিপাইন থেকে উচ্চপ্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের দেশে আনা হবে। তারা বাংলাদেশের নার্সিং ইনস্টিটিউট ও কলেজগুলোর শিক্ষক ও একাডেমিক ফ্যাকাল্টিদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন, যা দেশের সামগ্রিক নার্সিং শিক্ষায় এক নতুন গতি সঞ্চার করবে।

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য কেবল প্রশিক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আন্তর্জাতিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চার বছর মেয়াদি আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাক্রম (কারিকুলাম) পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। পাশাপাশি দেশের নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলোর শ্রেণিকক্ষ আধুনিকায়ন এবং ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে।

সরকারের প্রত্যাশা, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে যেমন আধুনিক চিকিৎসাসেবা সুনিশ্চিত হবে, তেমনই তৈরি হবে বিপুল কর্মসংস্থান। মানসম্মত শিক্ষা ও ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের এই দক্ষ নার্সিং জনশক্তিকে ভবিষ্যতে বিপুল পরিমাণে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবার মান ত্বরান্বিত করার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দেওয়া হয়। ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলোতে নার্স ও মিডওয়াইফ (ধাত্রী) পদের যেসব শূন্যতা রয়েছে, তা দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খুব শীঘ্রই পদগুলোতে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবে সরকার, যা দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করে তুলবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ