আইন আদালত ডেস্ক
চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের আলোচিত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ-৩ আদালতের বিচারক মো. আরিফুল ইসলাম আজ রোববার এই আদেশ দেন। আসামিপক্ষের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বাহার ট্রেডার্স ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী হাফিজ উদ্দিন বাহারের দায়ের করা ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৮ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় আসামি সাহেদের অনুপস্থিতিতে গত ৩ মে রায় ঘোষণা করেছিলেন আদালত। রায়ে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আজ ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন জানালে বিচারক তা প্রত্যাখ্যান করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, প্রারম্ভিক চুক্তির অধীনে নির্মাণসামগ্রী ক্রয়ের বিপরীতে ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর উত্তরা ব্যাংকের নবাবপুর শাখার একটি চেক প্রদান করেন সাহেদ। ২০২০ সালের ৫ মে বাদী চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দিলে অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। পরবর্তীতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পরও নির্দিষ্ট সময়ে পাওনা পরিশোধ না করায় ২০২০ সালের ২৬ জুলাই সাহেদের বিরুদ্ধে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে, মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার অপর একটি চেক ডিজঅনার মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ২০ জুলাই রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস পরীক্ষায় জালিয়াতি ও হাসপাতাল পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগে ২০২০ সালে সাহেদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাভোগ করেন। মোট ৯৬টি মামলার মুখোমুখি হওয়া সাহেদ এর আগে সাময়িক জামিনে মুক্ত থাকলেও নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সাজা কার্যকর হওয়ায় তাকে পুনরায় কারাগারে যেতে হলো।


