অপরাধ ও শৃঙ্খলা ডেস্ক
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। অভিযুক্ত শিক্ষককে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করার বিষয়ে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি দাপ্তরিক আদেশ জারি করা হয়। নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন মাউশির শিক্ষা কর্মকর্তা (মাধ্যমিক-২) মওদুদ আহমেদ।
শোকজপ্রাপ্ত শিক্ষকের নাম মো. আবু তালেব (ইনডেক্স: এন১১৩৪৭৩৩)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার হায়দর নগর কলাকান্দি আছমাতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিষয়ক সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শিক্ষক মো. আবু তালেব তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য করে কিছু অবমাননাকর ও মানহানিকর মন্তব্য প্রকাশ করেন। বিষয়টি অধিদপ্তরের দৃষ্টিগোচর হলে এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
জারি করা আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশাসনিক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করা সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বিধির চরম পরিপন্থী। এই ধরনের আচরণ প্রচলিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইন, সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকগণের চাকুরির শর্ত বিধিমালা-১৯৭৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রদত্ত তিন কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত বিভাগীয় ও প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উক্ত শোকজ আদেশের অনুলিপি ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, মাউশির সংশ্লিষ্ট পরিচালক, কুমিল্লা অঞ্চলের উপপরিচালক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রয়োজনীয় কার্যার্থে পাঠানো হয়েছে।


