অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫-এর প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। নবগঠিত এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিগত ৬ আগস্ট প্রকাশিত একটি সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কমিটি গঠনের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
সরকারি গেজেট অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদ ও অর্থ বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটিতে সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন; আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী।
গেজেটে নির্দেশিত কার্যপরিধি অনুযায়ী, নবগঠিত কমিটি জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ২০২৫-এর বিস্তারিত প্রতিবেদন ও সুপারিশমালা পর্যালোচনা করবে। দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সার্বিক জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় নিয়ে সরকারি নীতিমালার আলোকে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করাই এই কমিটির প্রধান কাজ। পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং কাজের স্বার্থে কমিটি যেকোনো বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত (কো-অপ্ট) করার এখতিয়ার রাখবে। সময়সূচি অনুযায়ী কমিটির নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং অর্থ বিভাগ এই কমিটিকে সার্বিক সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।
বাংলাদেশের বিচার বিভাগে কর্মরত বিচারকদের বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করার জন্য নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের পে-কমিশন গঠন করা হয়। বিচারকদের কাজের ধারাবাহিকতা, পেশাগত ঝুঁকি এবং মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে একটি বস্তুনিষ্ঠ বেতন কাঠামো প্রস্তুত করা অপরিহার্য। এই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে বিচার বিভাগের জন্য নতুন বেতন স্কেল ও ভাতা সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করা হবে, যা দেশের পুরো বিচার ব্যবস্থার প্রশাসনিক গতিশীলতা ও সন্তুষ্টি নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


